কিশোরগঞ্জের ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল, তোমার আত্মা শান্তি পাক — ডাঃ এম. এস. কবীর জুয়েল।

 

   

 

আজ 12th May- ‘International Nurses Day’ ‘- “পাষন্ডদের কঠোর শাস্তি হোক, কিশোরগঞ্জের নাইটিংগেল তানিয়া-র আত্মা শান্তি পাক”
বাবা আদর করে সর্বকনিষ্ঠ কন্যাকে তানু বলে ডাকতো, মূল নাম তানিয়া; নিম্নবিত্ত পরিবারের ছোট্ট মেয়ে, পেশায় সেবিকা, সে তার কষ্টার্জিত উপার্জন জমিয়ে গরীব বাবা-কে একটি বাড়ি করে দিতে চেয়ছিলো, এখন বিয়ে করলে ব্যত্যয় ঘটবে বিধায় বিয়ের জন্য পরিবার থেকে পীড়াপীড়ি করলেও, ভাই-বোনদের বুঝিয়ে আর কটা দিন সময় নিয়েছিলো, একটি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকুরী হতে যৎসামান্য বেতনের বৃহদাংশই পরিবার পরিজনের জন্য ব্যয় করতো।
ছুটি পেলেই ছুটে যেতো কিশোরগঞ্জের নিভৃত গ্রামে,উদ্দেশ্য দুটো- ১)বাবা মায়ের খোঁজ নেয়া ২) গ্রামের প্রান্তিক মানুষগুলোকে নিজের জ্ঞানানুযায়ী সাস্থ্য সম্পর্কিত পরামর্শ প্রদান।
অনেক নার্স কিংবা চিকিৎসকগণ শাহুরে পরিবেশে চাকুরী পেয়ে গ্রামের আত্মীয়-প্রতিবেশীদের স্বাস্থ্য পরামর্শ দেবার কথাটি ভূলে যায়, কেউ কেউ আরেকধাপ এগিয়ে হঠাৎ পরিচয়ে পরিণয়াবদ্ধ হয়ে বাবা মা-কে ও বেমালুম ভূলে যায়, এ দিক দিয়ে ব্যতিক্রম ছিলো মেয়েটি, সাশ্রয়ী চলাফেরায় সদা অভ্যস্ত ছিলো, তাই বিলাসী কোন এসি বাস সার্ভিসে অযথা না উঠে ঢাকার এয়ারপোর্ট বাস ষ্ট্যন্ড থেকে একটা লোকাল বাসে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়, এভাবে গণ পরিবহনে চলাচল করে বেঁচে যাওয়া পয়সা দিয়ে বাবাকে সাহায্য করে, প্রতিবেশীর অসুস্থ বাচ্চাটিকে সিরাপ কিনে দেয়, গত ডিসেম্বরে মা মারা যাবার পর প্রথম রোজার ইফতার নিঃসংগ বাবার সাথে করতে চেয়েছিলো, কিন্তু পরিবহন শ্রমিক নাম ধারী নরপশুগুলো তা হতে দেয়নি, অত্যন্ত সুকৌশলে তাকে বাসে একা করে নিজেদের পাশবিক লিপ্সা চরিতার্থ করে দূর্ঘটনার নাটক সাজিয়েছিলো।
এ ঔদ্ধত্যের, এ বর্বতার আশু অবসান হওয়া প্রয়োজন, বহু মুসলিম দেশে ইসলামের বিধানানুযায়ী ধর্ষণের প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হয়, সে সব দেশে নারীরা মাইল কে মাইল একা পথ চললেও এ ধরনের ঘটনা নেই বললেই চলে। আমাদের দেশে যে হারে ধর্ষণ পরবর্তী হত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, কেন আমরা হুদূদ ও কিসাস আইনের কিয়দংশ প্রয়োগ করছিনা????
তবেই তো আমাদের এই উদীয়মান ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল – দের জন্য নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাসস্থান গড়তে পারতাম। আইন শৃংখলা বাহিনীর তড়িৎ পদক্ষেপে ইতিমধ্যেই পাষন্ডরা ধরা পড়েছে কিন্তু আমাদের প্রত্যাশা নার্স ‘তানিয়া’-র ধর্ষক হত্যাকারীরা যেন কোনক্রমেই আইনের ফাঁক গলিয়ে না বেরিয়ে পড়ে। আমার পেশাগত জীবনের প্রথম দিকটা কেটেছে সেবিকাদের লেকচার ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের এক্সামিনার হিসেবে, ২০০৩-২০০৬ ঢাকা মেডিকেল কলেজের নার্সিং ইনস্টিটিউটের এক্সামিনার থাকায় ব্যক্তিগত জীবনে আমি অনেক দরিদ্র অথচ অত্যন্ত মেধাবী নার্সিং শিক্ষার্থীদের কষ্টকর অভিজ্ঞতা কাছ থেকে দেখেছি, তানিয়া-র অকালে চলে যাওয়া আমার স্মৃতিগুলোকে আরেকবার নাড়া দিয়ে গেলো।

Leave a Comment